বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে গত ২৬শে মার্চ থেকে যে সাধারণ ছুটি শুরু হয়েছে, তার মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
করোনার কারনে ঢাকা এখন উন্নত শহরের মতই একদম নিরব ও পরিষ্কার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, আগামী ৯ই এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি জানান যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন। এখন এ ব্যাপারে একটি প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া চলছে।
সাধারণ ছুটির মেয়াদ পাঁচ দিন বাড়িয়ে ৯ই এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও এর পরের দুইদিন সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে আগামী ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকছে।
মঙ্গলবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত আলোচনার শুরুতে আসন্ন বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য আহবান জানান।
ওই অনুষ্ঠানেই তিনি ইঙ্গিত দেন যে ছুটির আওতা আরও বাড়ানো হতে পারে।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এর আগে গত ২৩শে মার্চ এক ঘোষণায় সরকার জানিয়েছিল যে ২৬শে মার্চ থেকে শুরু হয়ে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে চৌঠা এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে।
তার আগেই দেশটিতে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অঘোষিত এই 'লকডাউনে' সড়ক, রেল, নৌ ও বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। সারা দেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনীকেও।
মঙ্গলবারে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, ''কেউ যদি মনে করেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার লক্ষণ দেখা দিয়েছে তাহলে সাথে সাথে পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন।''
কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে বিষয়টি গোপন না করার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, "লুকাতে যেয়ে নিজের সর্বনাশ করবেন না, পরিবারের সর্বনাশ করবেন না।"
এছাড়া কাউকে খাদ্য সাহায্য দিতে গিয়ে জনসমাগম না করারও আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পরিস্থিতি এখনো পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।
সূত্রঃ BBC NEWS



0 Comments